দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রফতানিকারকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) লিমিটেড বাংলাদেশ। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
মনোনয়ন ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ‘বছরের সেরা রফতানিকারক’ হিসেবে আরএমজি বা তৈরি পোশাক শিল্প, আরএমজি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস এ চার ক্যাটাগরিতে পুরস্কারটি দেয়া হবে। এক্ষেত্রে আরএমজি ক্যাটাগরিতে সব অ্যাপারেল পণ্য যা তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। তবে এজন্য বার্ষিক রফতানি আয় হতে হবে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি। আরএমজি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ক্যাটাগরিতে তৈরি পোশাক শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে সাপোর্ট করে এমন পণ্যের প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এজন্য বার্ষিক রফতানি আয় ৫০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি হতে হবে। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাটাগরিতে ইলেকট্রনিকস, হাল্কা প্রকৌশল, প্লাস্টিকস, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, অ্যাগ্রো প্রসেসিং, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এজন্য বার্ষিক রফতানি আয় থাকতে হবে ১০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি। সার্ভিস ক্যাটাগরিতে থাকছে প্রফেশনাল, ডিজিটাল অথবা জ্ঞানভিত্তিক সার্ভিস খাত। এ খাতে বার্ষিক রফতানি আয় ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার চেয়ে বেশি হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড অব কমিউনিকেশনস তালুকদার নোমান আনোয়ার অ্যাওয়ার্ডসে অংশ নেয়ার নিয়মাবলি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রফতানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, টেকসই পরিচালন প্রক্রিয়া, ডাইভারসিটি, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স প্রভৃতি বিচার করা হবে। এতে বিচারকমণ্ডলী বা জুরি প্যানেলে এইচএসবিসির সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ব্রিটিশ হাই কমিশনের নির্বাচিত সদস্যরা থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘এ পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা দেশের সফল প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সাফল্য এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাকে উদযাপন করছি। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তারা যে ভূমিকা রাখছেন, সে যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’
এর আগে, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ জব্বার বলেন, ‘এ ধরনের পুরস্কার উদ্যোক্তাদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে মার্কেটে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করে, যা দেশের জন্য কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগায়।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কার উদ্যোক্তাদের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে। এইচএসবিসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পেলে সেটির মাত্রা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।’
‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। এছাড়া টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে থাকছে কেপিএমজি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়।